পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক (আইএসএন) লিমিটেডের শেয়ারদর গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ৪৭ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়েছে। এতে কোম্পানিটির শেয়ার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। গত সপ্তাহ শেষে শেয়ারটির দর ৭২ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৪৯ টাকা ৬০ পয়সা।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৮ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৪২ টাকা ২০ পয়সা। এর পর থেকেই শেয়ারটির দর ঊর্ধ্বমুখী। পাশাপাশি এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ২৭ টাকা থেকে ৭২ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করেছে। সম্প্রতি কোম্পানিটির কাছে দরবৃদ্ধির কারণ জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল ডিএসই। এর জবাবে কোম্পানিটি জানায়, সাম্প্রতিক শেয়ারদর ও লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে কোনো ধরনের মূল্যসংবেদনশীল তথ্য নেই।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৭ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২০ পয়সা।
৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ৭৫ পয়সায়।
৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ইনফরমেশন সার্ভিসেসের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৩ পয়সা।
২০২২-২৩ হিসাব বছরে ১ শতাংশ ও ২০২১-২২ হিসাব বছরে ৩ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি। ২০১৯-২০ হিসাব বছরে ১ শতাংশ ও ২০১৮-১৯ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল ইনফরমেশন সার্ভিসেস।
২০০২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রথম প্রজন্মের ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসান রয়েছে ৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৯ লাখ ২০ হাজার ৩। এর মধ্যে ২১ দশমিক ৪৭ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৬৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।